পাইন বনের নিভৃত ছায়ে
পাইন বনের নিভৃত ছায়ে
Cover Image
Book Image 1

পাইন বনের নিভৃত ছায়ে

Authors: শান্তনু ভট্টাচার্য

ISBN-13: 9789349554573

Format: Paperback and e-book

Pages: 103

Product Dimensions: 6 x 9 inch

Publisher: Bharat Global Publications

Rating:
299.00 Rs.199.00 Rs.
View PDF
How to cite: "ভট্টাচার্য, শা. (n.d.). পাইন বনের নিভৃত ছায়ে. ISBN 9789349554573. Bharat Global Publications."

Share this book:

About the Author(s)

শান্তনু ভট্টাচার্য

শান্তনু ভট্টাচার্য

কলকাতার বাসিন্দা, লেখক এবং প্রকৃতিপ্রেমী শান্তনু ভট্টাচার্য তাঁর প্রথম উপন্যাস নিয়ে হাজির হয়েছেন।

তিনি একজন উৎসাহী পাখি-আলোকচিত্রীর (bird photographer), যিনি পাহাড়ের নির্জনতা এবং প্রকৃতির মাঝে খুঁজে পান পরম প্রশান্তি। পাখি পর্যবেক্ষণ, বনভ্রমণ এবং ভৌতিক ঘরানার লেখার জন্য এর আগে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। তবে তাঁর এই নতুন উপন্যাসে লেখক গতানুগতিক ধারা থেকে সরে এসে মানুষের অন্তর্দৃষ্টি, চেতনা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর আলোকপাত করেছেন। উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক দৃঢ়চেতা নারিকাকে নিয়ে, যার যাত্রা শুরু হয় এক ছোট মফস্বল শহর থেকে এবং পৌঁছায় স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের দোরগোড়ায়। সদ্য স্বাধীন ভারতের সেই সন্ধিক্ষণে, তথাকথিত সমাজের গোঁড়া এবং সেকেলে চিন্তাধারার বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি হয়ে ওঠেন প্রগতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।

এটি এমন একটি গল্প যা ধীরে ধীরে তার ডালপালা মেলে ধরে। এটি পাঠকদের এক নারীর নিজেকে এবং সমাজকে বদলানোর সাহসী হতে আহ্বান জানায়যে নারী সমাজের প্রচলিত নিয়মগুলো নতুন করে লিখতে বদ্ধপরিকর। একটি পরিবর্তনশীল সমাজের রক্ষণশীল প্রথা এবং পশ্চাৎপদ মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ জানাবার জন্য তিনি নিরলস সংগ্রাম করে যান। সমাজের বাধানিষেধগুলো ভেঙে ফেলার এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই সাহসিকতার এক অনবদ্য কাহিনি গড়ে ওঠে।

সহনশীলতা পরিবর্তনের এই রোমাঞ্চকর কাহিনীতে নারিকার জীবনের নানা পর্যায় উদ্ভাসিত হওয়ার সাথে সাথে পাঠকরা মুগ্ধ হতে বাধ্য। যারা চরিত্র-প্রধান আখ্যান এবং সামাজিক পরিবর্তনের জটিল সমীকরণ নিয়ে পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বইটি অবশ্যপাঠ্য।

About the Book

সদ্য স্বাধীন ভারতের ধুলোমাখা ও স্মৃতিজাগানিয়া পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসটি এমন এক নারীর সাহসী যাত্রার গল্প বলে, যিনি জন্মেছিলেন তাঁর সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। এমন এক যুগে যখন জাতীয় সত্তা নতুন করে গড়ে উঠছিল, অথচ নারীদের জন্য সামাজিক ও গার্হস্থ্য জীবন ছিল এক কঠোর খাঁচার মতো, সেখানে তিনি আবির্ভূত হন প্রগতিশীল আদর্শের আলোকবর্তিকা হিসেবে। পারিপার্শ্বিক জগৎ যখন বিশ্বাস করত যে নারীর মূল্য কেবল অন্দরমহল আর অন্যের সেবায় সীমাবদ্ধ, তিনি তখন স্বপ্ন দেখতেন এক অন্য নিয়তির। তাঁর কাছে শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠ ছিল না; এটি ছিল পুরুষতান্ত্রিক নির্ভরতার কাঠামো ভেঙে ফেলার এক বিপ্লবী হাতিয়ার।

​এই উপন্যাসটি বেরিলির সাদামাটা অলিগলি থেকে দেরাদুনের কুয়াশাঘেরা সম্ভ্রান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক তরুণীর রূপান্তরের মহাকাব্যিক যাত্রাকে তুলে ধরে। কেবল স্বপ্নচারী হিসেবে নয়, তিনি সেখানে প্রবেশ করেন এক পথপ্রদর্শক শিক্ষাবিদ হিসেবে; এমন এক বিশ্বে নিজের উত্তরাধিকার বা 'লেগ্যাসি' তৈরি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যে বিশ্ব তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সন্দেহের চোখে দেখত।

ভৌগোলিক পরিবর্তনের চেয়েও তাঁর এই যাত্রা ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। আখ্যানটি তাঁর বহুমুখী বাধার চিত্র নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলে:

​এমন এক একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের গেঁড়ে বসা সংস্কারের মোকাবিলা করা, যা নারীর মেধার কর্তৃত্ব মেনে নিতে নারাজ।

​একজন নেতা ও মেন্টরের গাম্ভীর্য বজায় রেখে নিজের মনের সংশয় বা 'ধূসর শহর'-এর (Grey City) মধ্য দিয়ে পথ চলা।

​তাঁর প্রগতিশীল শিক্ষণ পদ্ধতির সাথে সমাজের শতবর্ষপ্রাচীন কঠোর প্রত্যাশার এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা।

​এই আখ্যানটি সাংস্কৃতিক সংঘাতের এক গভীর অনুসন্ধান—যে স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে যখন আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তির সাথে ঐতিহ্যের কঠোর ও অমসৃণ প্রান্তের ঘর্ষণ লাগে। উত্তরের এই "ধূসর শহরে" তাঁর বিচরণের মাধ্যমে গল্পটি তুলে ধরে:

​সেই গভীর ও অতল একাকীত্ব, যা তাদের সঙ্গী হয় যারা এমন পথে হাঁটে যেখানে আগে কোনো পথ ছিল না।

​তাঁর অটুট বিশ্বাস যে নারীরা কেবল গৃহকর্মে নয়, বরং পেশাগত দক্ষতায় সমাজের স্থপতি হতে সক্ষম।

​একটি মূল ভাবনার অন্বেষণ—একটি মেয়েকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো কি অতীতের শৃঙ্খল ভাঙার জন্য এক "নীরব বিপ্লব" হতে পারে?

​একটি একক, দৃঢ় কণ্ঠস্বর কি শতাব্দীপ্রাচীন প্রত্যাশার ইমারত ভেঙে ফেলতে পারে? এটি কেবল সমাজ সংস্কারের গল্প নয়; এটি এমন এক নারীর হৃদয়ের যাত্রা যিনি বিশ্বাস করার সাহস রাখেন যে, "নতুন ভারত" ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হতে পারে না, যতক্ষণ না এর কন্যারা তাদের পূর্বপুরুষদের নীরবতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়।